Unknown Unknown Author
Title: পরকিয়া (গল্প)
Author: Unknown
Rating 5 of 5 Des:
বাবার একমাত্র মেয়ে রহিমা,রহিমার বাবার সাথে যখন রহিমার মায়ের বিয়ে হয় তখন রহিমার মা একজন মধ্যবিত্ত সংসারের মেয়ে।আর রহিমার বাবার মধ্...
বাবার একমাত্র মেয়ে
রহিমা,রহিমার বাবার সাথে যখন
রহিমার মায়ের বিয়ে হয় তখন
রহিমার মা একজন মধ্যবিত্ত
সংসারের মেয়ে।আর রহিমার
বাবার মধ্যবিত্তের চাইতে একটু
বেশিই ছিলো।
.
….দুজনে একটু প্রেম করেই বাড়ীতে
প্রস্তাবের মাধ্যমে সবার একত্বায় ৭
বছর আগে বিয়ে হয়,প্রথমে
দাম্পত্যজীবনটা অনেক সুখের
ছিলো।
ভালোবাসায় ভরপুরেই ছিলো
তাদের নতুন সংসার, প্রেম থেকে
বিয়ে পর্যন্ত রহিমার মা রহিমার
বাবার গোপন কথাগুলি জানতেনও
না এবং জানার আগ্রহও করেনি
কোনদিন…কিন্তুু রহিমার বাবাও
ছিলেন অনেক ভদ্র ও সৎ চরিত্রের,
রহিমার বাবা বড়লোকের ছেলে
এবং সুন্দর দেহের অধিকারী তার সাথে
শিিক্ষতও বেশ।
.
কিন্তুু রহিমার মা
কোনরকম ক্লাস নাইন পর্যন্ত পড়ে
রহিমার বাবার সাথে হাবুডুবু
খাওয়ায় বিয়ে পর্যন্ত গিয়ে হাল
ছেড়ে দিয়ে সংসার সাজাতে
ব্যস্ত।
যেহেতু প্রায় প্রতেক নারীর
দায়িত্ব স্বামীরর সংসারে এসেই
কিভাবে সংসারটি তারাতারি
গুছিয়ে তোলা যায় সেই কাজ নিয়ে
সারাটাদিন ব্যস্ত থাকে,এদিকে
রহিমার বাবাও সংসারের সব
বাকি কাজগুলো করে।
.
দুজনেরেই তখন
একটাই স্বপ্ন…… আমাদের সংসারটি
অনেক বড় হবে, দুজনের কোলে আসবে
একটি সুন্দর ফুটফুটে বাচ্ছা, সে সব সময়
কাঁদবে হাসবে খেলবে এবং তার
চিৎকারে আনন্দে মুখরিত হয় উঠবে
সারা গ্রাম।
.
দেখতে দেখতে প্রায় চলে গেল
দাম্পত্যজীবনের ৪ টি বছর, মহা
আনন্দেই চলছিল সংসারটি, রহিমার
বাবার কাজের মনযোগীও ছিল
অনেক বেশি।
তার মাঝেই একদিন রহিমার মায়ের
পেটে আল্লাহর রহমতে একাটা
বাচ্ছার আভাস
দেখা দিলো…তাহা শুনেই রহিমার
বাবা সহ পরিবারের সবাই অনেক
খুশি…
.
গ্রামের সবাই বলতে লাগলো…আরে
এতদিন পরে যে তোমাদের বড়
সংসারে একটা চাদ দেখা
দিচ্ছে..সবার প্রশংসা শুনে রহিমার
বাবা আরো বেশিই একটু উৎফুল্ল…
কিন্তুু তা দেখে রহিমার মা
একটুও আনন্দ পায় না,কেন জানি
যতদিন যাচ্ছে ততদিন রহিমার মা
একটু বেশি বেশি ঘাবড়িয়ে
যাচ্ছে—
.
কারন ইদানিং রহিমার মা
রহিমার বাবার কাজ কর্মে পরিবর্তন
দেখতেছে,সেই আগের মতকরে আর
ভালোবাসে না,অনেক রাতে
বাড়ীতে আসে,হয়তো কোনদিন
রাতের খাবার না খেয়েই
বিছানায় শুয়ে মুখ ঘুরিয়ে রহিমার
মাকে বলে….
-অনেক রাইত হইছে ঘুমিয়ে পর,আমি
খাইছি আর খাওয়ান লাগবো না।
রহিমার মা বলে কোথায় খাইচেন
আপ্নে…?
.
-চুপ করে ঘুমা এখন,আমি কোথায় খাই
কোথায় কি করি সেডা জিগান
লাগবো না,,,ঘুমা এহন।
.
….রহিমার মা দির্ঘ নিঃশ্বাস
ফেলে চিন্তায় চিন্তায় ঘুমানোর
চেষ্টা করে…. ..আর ভাবে লোকটার
কি হলো ইদানিং, ঠিকমত আমার
সাথে কথা বলে না,আগের মত স্বপ্ন
দেখে না আমার সংসার নিয়,,ওহ্ কি
যে হলো…….
.
এদিকে রহিমার বাবার একটাই
চিন্তা সবসময়…. মমতাকে বিয়ে
করতেই হবে,যে কোন উপায়েই,ওকে
ছাড়া আমার বাচা বড় কঠিন হয়ে
যাবে।
গত কয়েকমাস ধরেই পাশের গ্রামের
মমতার সাথে তলে তলে প্রেম করে
আসতেছে রহিমার বাবা,রহিমার
মা কিন্তুু আগে এরকম কিছু তার
মাঝে পায় নি,,,
.
কিছুদিন যাবৎ
রহিমার বাবার আচরন দেখে
রহিমার মায়ের মনে সন্দেহ আসতে
লাগলো,,তবুও ভয়ে কিছুই বলেনি….
যতই দিন যাচ্ছে ততই রহিমার বাবার
সাথে মমতার প্রেমের সম্পর্কটা
আরো গাড় হতে চলছে,রাতে
রহিমার বাবা মমতার বাড়ীতে
গিয়ে খাওয়া দাওয়া করে,গল্প করে
স্বপ্ন দেথে ভবিৎষতের, সব শেষে
গভীর রাতে রহিমার বাবা মমতার
কাছ থেকে গ্রামের লোকদের চোঁখ
আড়াল করে পালিয়ে আসে….
.
কারন গ্রামের সবাই জানে মমতা
অনেক খারাপ মহিলা..তার আগে
বেশ কয়েকটা কু-ঘটন হয়ে কলংকিত
হয়ে আছে মমতা,
.
আর মমতার একটাই নেশা,,,কোন
পুরুষকে পটিয়ে বিয়ে করা,,এর
আগেও দুটি বিয়ে হয়েছিল কিন্তুু
মমতা খারাপ হওয়ায় দুটিই ভুন্ডুল,,,তাই
এবার মমতা রহিমার বাবার উপর নজর
দিয়ে সারাজীবনের স্বপ্নটা
বাস্তবে রুপান্তরীত করতে চায়,এবং
ছলে বলে কৌশলে রহিমার
বাবাকেও পঠিয়েছে….
.
এদিকে মায়ের পেটথেকে রহিমার
ভুমিষ্ঠ হওয়ার সময় হয়েছে,,,তার
মাঝেই স্বামীর সব কিছু বুঝতে
পেরে রহিমার মা আজ দিসেহারা
হয়ে কাতর হয় পরে আছে..
,.
বাড়ীর সবাই ব্যস্ত,,রহিমা জন্ম
নিবে তাই সংসারের সব কাজ করার
জন্যে সবাই সবার কাজে সব সময়
নিয়োজিত। হঠাৎ সন্ধার পর রহিমার
মায়ের পেটে ব্যথা, কেউ খুশি আর
কেউ বা রহিমার মায়ের
কাতরানিতে কান্নার করতেছে…..
.
রাত ২ টা বাজতে লাগলো,,, ভুমিষ্ঠ
হলো রহিমা নামের মেয়েটি,
সবাই মহা আনন্দে আত্নহারা….
কৈ লো…কে কোথায় আছিস,দেখ
আন্নারে ঘর উজ্জল কর এক্খান হুন্দর
মাইয়া জন্ম নিচে। ওর নাম রাখলাম
আমি রহিমা…..দাদা বলে
কথা যে..কিন্তুু রহিম কই…? সন্ধার পর
থাইকা পোলাডারে দেকতাছি
না,! কৈ গেল, একবার তো দেখবে
মাইয়াডাকে….
.
ঐদিক থেকে চিৎকার আসতেছে,,,,,
পাশের বাড়ীর নরেন এর…কাকু,,ও
কাকু,,, সব্বনাস হয়েছে লো…
রহিম ভাই পাশের গ্রামের মমতাকে
নিয়ে কৈ জানি পালিয়ে
গিয়েছে লো কাকু…..
.
….সুখের ঘরে দুঃখটা তারাতারি
চলেই এলো,কে এখন হাসবে আর কে
এখন কাদবে…সবাই অধিক শোকে
পাথর প্রায়…
আজ রহিমার বয়স ২ বছর,কোন রকম মুখে
বাবা বাবা বলে ডাক শুরু করে
দিয়েছে,,,তাই দেখে রহিমার মাও
মহা খুশি…
.
ওলে ওলে ওলে আমার
আম্মুলে…আব্বা আব্বা কয়
দেহি…চিন্তা করিস না আম্মু,
তোমার এই সুমধুর ডাকটি তার কানে
পৌছালেই সে চলে আসবে…..কারন
তুমি যে আব্বা বলতে শিখেছো।
…তারপর প্রতিদিনের মত কাঁন্না
ভরা চোখে রহিমার মা আবার
পথের দিকে চাইতে
থাকলো….কিন্তুু পথটি প্রতিদিনের
মত ফাঁকা ফাঁকা….
-সাইদুর রহমান

Advertisement

Post a Comment

 
Top