Unknown Unknown Author
Title: গল্পঃ ট্রজেডি
Author: Unknown
Rating 5 of 5 Des:
ট্রাজেডি -সাইদুর রহমান সিদ্দিক গরীব আবুলের ঘড়ে জন্ম নেন আলেয়া, আবুলের সংসার একটু ছোট হওয়ায় তেমনভাবে চলছিল না সংসারটি। কোন রকম পরিব...

ট্রাজেডি

-সাইদুর রহমান সিদ্দিক

গরীব আবুলের ঘড়ে জন্ম নেন আলেয়া, আবুলের সংসার একটু ছোট হওয়ায় তেমনভাবে চলছিল না সংসারটি। কোন রকম পরিবারের ৩ মেয়ে আর ১ ছেলে নিয়ে চলতেছে তাদের জীবন। আলেয়া সব ভাই বোনের মধ্যে বড়। সবে মাত্র প্রাইমারি পাশ করেছে। এর মধ্যে আবুল অন্যের ক্ষেতে কাজ করে এবং স্ত্রী করিমন অন্যের ঘরে কাজ করে দিনকাল চালায়।

পাশের গ্রামের আব্বাছ ঢাকাতে ভালো চাকুরী করে। তাই আলেয়ার বাবা মনে মনে ঠিক করলো আলেয়াকে আব্বাছের সাথে ঢাকায় পাঠিয়ে দিলে মনে হয় একটু রেহাই হইবো।

-আলেয়ার মা, হুনছো..

-বলেন কি বলবেন..??

-আলেয়াকে আব্বাছের সাথে ঢাকায় পাডায় দেই, কাম কাজ করে যদি দুইডা টাহা দেয়,তাহলে সংসারটা উজ্জল হইবো।

-তা হাচা কতা কইছেন, আমাদের সংসারডা তেমন চলছে না, মাইয়ারা বড় বড় হইতাছে।যদি আলেয়া কামাই করে মাসে মাসে টাহা দেয়। তাহলে হয়তো সংসারডা একটু বড় হবে।

-আইচ্ছা..ঘুমা এহন। কাইল সকালে আব্বাসের সাথে কখা কমু।

সকালে উঠে আবুল আব্বাসের সাথে দেখা করতে গেলো এবং আলেয়ার ব্যাপারে কথা বলতে গেল...

-বাবা আব্বাস, মাইয়াডা একটু বড় হইছে। অভাবের বড় সংসারটি তেমন চলছে না। যদি মাইয়াডারে ঢাহায় নিয়ে একটা কাম দিতে পারো,তাহলে মনে হয় আমাদের একটু শান্তি আসবে।

-ওকে, ওকে চাচা। আমার যাওয়ার দিন আলেয়াকে আমার সাথে দিয়ে যাইয়েন আমি আমার কারখানায় একটা চাকুরি দিবো।

-আইচ্ছা বাজান। আল্লাহ তোমার ভালো করবে।

বাসায় চলে এসে আবুল করিমনকে বলিল

-আর কোন চিন্তা নাই,আলেয়ার মা। ওর একটা ব্যবস্থা হলো তাহলে।

-হ,কদ্দিন মাইয়াডারে একটু ভালো ভালো খাওয়ান দেন। আমাদের ছেড়ে তো চলে যাবে অনেক দুরে।

-হ,হ, কৈ গেল মাইয়াডা..? একটু ডাক দে দেহি কি কয়....!

-আলেয়া,মা আলেয়া...কৈ গেলি..? একটু এই দিকে আয় তো, তোর বাপে ডাহে।

--আইতাছি মা।

-আচ্ছা আলেয়া, তোমরে ঢাকায় যেতে হইবো। আব্বাছের সাথে আলাপ কইরা এলুম । সামনের শনিবার আব্বাসের সাথে ঢাকায় যাবা।

--না, আব্বা, আমি যাইতে পারমু না। আমার মন থাকবে না। কাঁন্না করে...!!! তোমাদের ছেড়ে থাকতে পারুম না।

-দেখ মা, সংসারে তোর ছোড দুই বোন আর ভাই আছে । ওদেরকে আমরা দুজন পালতে পারতাছি না। যদি তুই মাসে মাসে কয়ডা করে টাহা আসে তাহলে একদিন দেখবি আমাদের সংসারটি অনেক বড় হয়েছে।

আলেয়ার চিন্তা চলে গেল সেই ছোট পরিবারটির দিকে। তার স্বপ্ন চলে গেল অনেক দুরে। সে স্বপ্নই দেখতে লাগলো, আমাদের সংসারটি সেই আগের মত নেই। অনেক বড় হয়েছে। সুন্দর সুন্দর জামা পড়তে পারতেছে। ছোট ভাই বোন গুলিকে মানুষের মত করে মানুষ করে তুলতে পারতেছে.....কেন জানি তার সব কিছু চোখের সামনে ভেসে আসতেছে।

অবশেষে আলেয়া রাজি হলো ঢাকা যাওয়ার জন্য......

দেখতে দেখতে শনিবার চলে আসলো, এবং আলেয়ার যাওয়ার সময় হলো..

-মা আলেয়া...!! তোরে অনেক আদর করি মা, তোকে যেতে দিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। তবুও যেতে দিতে হচ্ছে, গরীবের কোন সুখ নেই মা....!!!

--বাবা, তোদের ছেড়ে থাকতে পারুম না!!! আমার অনেক কান্না হচ্ছে বাবা।

-চোখের পানি মুছতে মুছতে.... বাবা আব্বাস...মাইয়াডারে নিজের বোনের মত দেখে রাখিস বাবা। তুই ছাড়া আর কেউ নাই মাইয়াডার।

-আচ্ছা চাচা, ঠিক আছে ওর চাকুরি দিয়ে তোমাদের ফোন করবো। আর ওকে দেখে রাখবো। এখন আমরা যাই...দোয়া কইরেন।

আলেয়া আর আব্বাস ঢাকার গাড়ীতে উঠে চলতে লাগলো। বিকেলের দিকে পৌছে আলেয়া নতুন শহরের হাওয়া খেতে লাগলো।

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে আলেয়া আব্বাসের সাথে তার কর্মস্থল একটা গার্মেন্টস এ চাকুরি নিতে গেল।

কাজে যোগদান করার পর আলেয়া বাবাকে ফোন দিালো....

-আব্বা, আমার আর কোন চিন্তা নেই। এহন থাইকা মাস মাস টাহা পাঠান দিবো। ভাল মন্দ খাইবেন। কিন্তুু তোসাদের ছাড়া কিছুই ভালো লাগে না বাবা..!

-মারে, কয়ডা দিন গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে, ভাল ভাল খাবার খাবি, চিন্তা করবি না।

এভাবেই চলে যেতে লাগলো অনেক মাস। প্রতি মাসে মাসে টাকা পাঠিয়ে দেয় আলেয়া। তার কাজের টাকায় তার ছোট ভাই বোন সহ পরিবারের সবাই মোটামুটি সন্তুষ্ট। উন্নতিও হতে চলতেছে সেই ছোট সংসারটি...


গার্মেন্টস-এ শ্রমিক পদে চাকুরি করে আলেয়ার দিনকাল মোটামুটি ভালোই কাটতেছে। তাদের বাড়ীতেও আগের মত আর অভাব নেই। ছোট ভাই বোন বাবা মায়ের সুখেই চলতে লাগল। প্রতি মাসে আলেয়া টাকা পাঠাচ্ছে এখন।


দিনে দিনে আলেয়া কৈশোর থেকে যৌবনে পা দিতে লাগলো। তা দেখে আলেয়ার বাবা মায়ের মাথায় আর একটা চিন্তা আসতে শুরু করলো....

-আলেয়ার মা, মাইয়াডা বড় হতে শুরু করেছে এখন একটা ভালা ছেলে দেখে বিয়ে দেওয়ান লাগবো

-হ, তাই কইরেন, আজ থ্যাইকা আলেয়ার জন্য পাত্র দেহা শুরু কইরেন, ঈদে বাড়ীতে আইলেই বিয়ে দিয়ে দিমু..


এখন আলেয়ার জন্য তার বাবা মা পাত্র খুজতে শুরু করে দিলো। (আলেয়ার পরিবারের কথা আজ থেকে একটু বন্ধ থাকুক, অন্য কোন পরিবারের কথায় আসি)

....উত্তরের জেলার ছেলে রহিম মিয়া কুলসুমের সাথে সেই স্কুল জীবন থেকে প্রেম করে আসতেছে। কুলসুম আর রহিম যখন প্রেম করে, তখন দুজনার ভালবাসার স্বপ্নসরুপ মনের বাসনা ছিল একটু অন্য ধরনের, কিন্তুু রহিমের বাবা এলাকার একটু ধনাট্যশালী হওয়ায় কুলসুম সব সময় রহিমকে হারানোর ভয় পায়,কারন কুলসুমের পরিবারের অবস্থা কোন রকম চলে। দিন আনে দিন খায় অবস্থা।

তার পরেও ইস্কুলের ক্লাশ ফাকি দিয়ে অথবা ছুটির পর দুজনে নিরালা কোন এক জায়গায় পালিয়ে গিয়ে তাদের ভবিৎসত পরিকল্পনা ও তাদের ভালবাসার বাণী নিবেদনে মগ্ন হয় ...

-আইচ্ছা কুলসুম,তোরে যখন আমি আমার ঘরে বউ করে নিয়ে আসমু তহন মনে হয় আমার বাবা কোনদিনও তোমাকে মেনে নিবে না। কারন তোমার বাবা অনেক গরীব।

-সেডা সত্য কথা বলেছো, আমি কেন যে এমন একটা কপালপুরি মেয়ে হয়ে জন্ম নিয়েছি। আজ আমি সেই কারনে ভালবাসার মানুষটির কাছেও ভালভাবে ভালবাসাটা দিতে পারি না। হায়রে কপাল!

-চিন্তা করো না, দরকার হলে পালিয়ে বিয়ে করে ঢাকায় চলে গিয়ে দুজনে চাকুরি করে খাবো,তবুও তোমাকে হারাতে চাই না।

-সত্যিই তুমি আমায় অনেক ভালবাসো,তা না হলে কি বাবা মাকে রেখে একাই আমাকে বিয়ে করার জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকো।

-হুম, এহন যাও কেউ দেখে ফেলবে আমাদের কথা। সোজা বাড়ীতে গিয়ে পড়তে বসো। আমিও যাই।

-আইচ্ছা সাবধানে যাইও।


...এলাকার মাতব্বর হিসেবে করিমের বাবা বেশ রাগি, ওনার কথামত এলাকার প্রায় সবাই উঠে আর বসে। এলাকার লোকদের প্রতি যেমন রাগ, তেমনি নিজের ছেলের উপরেও কম না। সব সময় বেশ শাসনেই রাথে ছেলেকে। বড় সংসার জুড়ে এই একটি মাত্র ছেলে আর একটি মাত্র মেয়ে।

তবুও রহিম তার প্রয়োজনীয় কাজের কথা অথবা টাকা পয়সা কোন কিছুই তার বাবার কাছে চাইতে পারে না। এমনকি কোনদিনও মুখ ফুটিয়ে তার কোন সখের কথাও তার বাবাকে বলে নি। কারণ বললেই রাগ হয়ে কথা বলে এবং পড়া পড়তে বসতে বলে।সেই কারনেই রহিম সব বিষয়ে তার বাবার সাথে আনমনস্ক।

কিন্তুু এদিকে রহিমের বাবার অনেক রাগ হলে হবে কি, তলে তলে অনেক ভালবাসেন ছেলেকে। তার বাবার ইচ্ছে...এই বড় সংসারে বড় ছেলেকে অনেক পড়া লেখা করিয়ে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলবে। দশ গ্রামের লোক যেন বলতে পারে যে__ওমুক মাতব্বরের ছেলে ওমুক চাকুরি করে। এটাই রহিমের বাবার ইচ্ছে।

সেই কারনেই ছেলেকে সব সময় চোখে চোখে রাখে এবং শাসন করে রাখে।

এদিকে দিন যতই যাচ্ছে রহিম এবং কলসুমের ভালবাসার আবেগের ঢেউ উৎলায়ে আসতেছে..এখন গাও গ্রামের লোকেদের সামনেই তাদের প্রেমালাপ চলে। কারণ তাদের ভরা যৌবনা বয়সে একজন আর একজনকে ছেড়ে থাকতে পারতেছে না।

এখন তাদের দুজনার প্রেমালাপ অনেকেই দেখতে পায় আর রহিম এবং কলসুমের বাবাকে তাদের ভালবাসার বন্ধনের চাবিকাঠি সহ সব কিছুই কানে কানে বলে দেয়।

এখন আর তাদের হাতে বেশি সময় নেই, কারণ তাদের আসল দেওয়ালেরা তাদের বিষয়ে সব জানতে পেরেছে। আর এগুলি জানার পর দুজনকেউ দু পরিবারের কর্তারা শাসন করতে শুরু করে দিয়েছে। এমনকি কলসুমকে তার বাবা আর স্কুলেও যেতে দেয় না। সব সময় বাড়ীতেই চোখের সামনে দেখে দেখে রাখে।


ঐ দিকে রহিমের অবস্থা আরও বেশি ভয়াভহ, রহিমকে বাড়ীতে আটকিয়ে রেখে ঠিকমত খাবারও দিচ্ছে না। আদরের ছেলে বলে.তার মা চুপ করে কোন রকম খাবার দেয়।


কিন্তু এভাবে আর কতদিন চলবে....সময়ও চলে আসতেছে তাদের বিয়ে করার জন্য। কিন্তুু ভালবাসার টান একটু অন্য ধরনেরেই হয়। তাই রহিম চুপ করে বাড়ীর কাজের মেয়ের হাকে একটি চিরকুট দেয় যে কুলসুমকে দিতে।


জায়গামত চিরকুটি পৌছানোর পর অবশেষে একদিন ঠিক সময়েই দুজনে পালিয়ে ঢাকার গাড়ীতে চরে ঢাকার উদ্দশ্যে রওয়ানা হয়।

পরে কোন একজন পরিচিত লোকের মাধ্যমে দুজন দুজনে বিয়ে করে, এবং দুজনে একটা চাকুরি নেওয়ার জন্য চেষ্টা করে। অবশেষে দুজনেই সেই আলেয়া যে গার্মেন্টস এ চাকুরি করে ঠিক সেই কারখানায় তারা দুজনেও চাকুরি পায়.....

রহিম এবং কুলসুম যখন ঢাকায় এসে পালিয়ে বিয়ে করেছিল। তখন রহিমের বাবা অনেক রাগ ও জিদ ভরে তাকে ত্যজ্য করতে চেয়েছিল। কিন্তুু পাড়া পরশিদের অনুরোধে শুধু ক্ষোব প্রকাশ ছাড়া কিছুই ছিল না। তার উপর আবার আদরের একমাত্র সন্তান। কিন্তুু কি আর করার আছে...সমাজে এই রকম কাজ করলে বাবা মায়ের সম্মান যে চলে যায় আগে..!


তার পরেও মাতব্বরের একটা চিন্তা..আদরের ছেলেকে অমন কষ্ট দেখতে পারবে না। যে কোন একদিন রাজি হয়ে হাসি মুখে ওদের দুজনকে আমার ঘরে তুলে আনবো।

রহিম আবার ছেলে হিসেবে অনেক ভিতু। তার মনের ধারনা, আমার বাবা কোনদিনেও এই বিয়ে মেনে নিবে না। আমি এই মুখ কখনোই বাড়ীতে বা গ্রামে দেখাবো না। বরং দুজনে চাকুরি করেই বাকি জীবনটা এ ভাবেই পার করে দিবো।

সেই স্বপ্নে তারা দুজনে চাকুরি করে সংসারজীবন গোছাতে শুরু করে দিলো।

সেই দক্ষিনের ছেলে মাহিম এস এস সি পরীক্ষা দেওয়ার পর অনেক দিন অবকাশ পাবে বলে,সে তার ফুফাতো ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে চলে আসলো।ফুফাতো ভাই সজল অনেকদিন ধরে ঢাকায় একটা চাকুরি করে।আগে মাঝে মাঝেই সজল মাহিমকে ফোন করে তার ঢাকায় একটু ঘুরে যাওয়ার জন্য বলেছিল...মাহিম এর আগে ঢাকায় কখনও আসেনি। তাই এই সুযোগটা হাতে পেয়ে আর হাতছাড়া করলো না....

-মা, পরীক্ষার রেজাল্টের অনেকদিন বাকি আছে..একটু মাহিম ভাইয়ার কাছে গিয়ে বেড়িয়ে আসি

-আচ্ছা বাবা, তোর অনেকদিনের সখ ঢাকা দেখার, তোর ইচ্ছে হলে যেতে পারিস। আমার এবং তোর বাবার কোন আপত্তি নেই, তোর বাবা বাজার থেকে এলে বলবো।

-হিহিহি,কি মজা। আচ্ছা মা, ঠিক আছে

রাতে মাহিমের মা সব কিছু তার বাবাকে বলার পরেরে,তার বাবাও কোন দ্বি-মত পোষণ করলো না।

পরের দিন মাহিমের বাবা মাহিমের হাতে হাজার তিনেক টাকা হাতে দিয়ে বললো...

-আচ্ছা বাবা তোর ইচ্ছে অনুযায়ী তোর সজল ভাইয়ের ওখানে গিয়ে কয়টাদিন ঢাকা শহর দেখে আয়

-ঠিক আছে আব্বা, কালকেই আমি ঢাকার গাড়ীতে উঠে চলে যাবো

-ঠিক আছে, তবে শোন বাবা,বেশিদিন ওখানে থাকিস না। জানিস তো, তোকে ছাড়া আমরা একদিনেও থাকতে পারি না। কটাদিন থেকেই চলে আসবি

-আচ্ছা ঠিক আছে

পরেরদিন সকালে মাহিম বাবা মায়ের কাছে দোয়া নিয়ে চলে যেতে লাগলো...কিন্তুু আদরের ছেলে জীবনে প্রথম বাড়ীর বাইরে চলে যাওয়া দেখে তার বাবা ও মায়ের চোখের পানি ঝরতে লাগলো। মাহিম তা দেখে তারও চোখে জল এসে গেলো। কিন্তুু কি আর করার আছে,তার সখের ইচ্ছে তো পালন করতেই হবে। অবশেষে মাহিম বাবা মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গাড়ীতে উঠে পড়লো, সন্ধার একটু আগে মাহিম সজলের কাছে গিয়ে পৌছাল।

সজলের সাথে সাথে হেটে আর মাহিম রাস্তার চারপাশের বড় বড় সুসজ্জিত বিল্ডিং আর দালান দেখতে লাগলো। আর মনে মনে বেশ খুশি

কারন জীবনে এই প্রথম ঢাকায় এসে নতুন নতুন কিছু দেখতে পাচ্ছে...এবং আগামীকাল থেকে আরও অনেক কিছুই দেখতে পাবে...

মাহিম প্রথমে ঢাকাতে গিয়ে একটু ঘাবড়িয়েই গিয়েছিল। কারণ সেই ছোটকাল থেকে সে গ্রামের হরেক রকম পাখির আওয়াজ শুনে এসেছিল। কিন্তুু ঢাকাতে আর সেই সুমধুর পাখির আওয়াজ পায় না। পাখির আওয়াজের মধ্য দু একটি দাড় কাকের কর্কশ আওয়াজ ছাড়া কোন পাখির শব্দ কানে যায়নি।
আবার সে গ্রামের নিস্তব্দময় জায়গা পায়না, যদিও কোথাও ফাঁকা জায়গা পায়,সেখানেও বিভিন্ন প্রকার বিভিন্ন ধরনের গাড়ীর সাইরেন ও হর্নের শব্দে থাকা বড় দায়।

কি আর করার আছে,তবুও সখের বসে সব কিছু সহ্য করতে হবে যে...! তাই তেমনটা মনে করিল না। সারদদিন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ফিরে সন্ধার পর বাসায় এসে উপস্থিত হয়। বাসায় আসার পর সজলকে দেখতে না পেরে মাহিমের মন আরও খারাপ হয়। কিন্তুু তাতেও কিছু করার নেই---কারণ সজল অফিস থেকে ফিরতে ফিরতের রাত ন'টা কিংবা দশটা বেজে যায়। সজল বাসায় আসার আগ মহুর্ত পর্যন্ত মাহিম এফ এম রেডিওর গান শুনে সময় পার করে এবং বাড়ীর কথা মনে এলে বাবা মার কথা স্বরণ করে দু এক ফোটা চোখের জল ফেলে দেয়।

এদিকে আবার মাহিমের বাবা মা ও বেশ খুশিতেই ছিল না। আদরের একটিমাত্র সন্তান অনেকদিন পর বাড়ীর বাইরে যাওয়াতে তাদের দুজনারেই মনডা খারাব,তাই রাতে শুয়ে শুয়ে মাহিমের বাবাকে তার মা বলতেছে....

-দেখছো,ছেলেটা দুদিন থেকে বাড়ীতে নাই,কেমন জানি সব ফাঁকা ফাঁকা লাগতেছে

-কি আর করার আছে মাহিমের মা, ছেলে মানুষ সব সময়ে বাড়ীতে থাকতে নেই। ওদেরকে অনেক জায়গা দেখতে হবে,শুনতে হবে,বুঝতে হবে যে, কদিন গেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে

-তবুও বুকটা কেমন কেমন করে ছেলেটার জন্য, আদরে মানুষ হয়েছে,,ওখানে সে কি খাচ্ছে কি করছে কে জানে


-কি আর করার আছে মাহিমের মা, আচ্ছা টেনশন করার দরকার নাই,ঘুমাও কাল সকালে ফোন দিবো

-আচ্ছা ঠিক আছে

পরেরদিন সকালে মাহিম ঘুম থেকে উঠে অনেক দিনের স্বপ্নের ঢাকা চিড়িয়াখানা দেখার জন্য রুম থেকে বাহির হলো। যদিও রাতে মাহিমের বাড়ীর জন্য বাবা মায়ের জন্য কষ্ট হয়, দিনে আবার সব ঠিক হয়ে যায়,কারণ একটু ব্যস্ত ও বিনোদনের জন্য।

মাহিম তার সপ্নের ঢাকা চিড়িয়াখানা দেখতে শুরু করে দিল...সেই সময়েই পকেটের সেল ফোনটা বাজতে লাগলো, স্কিনে দেখতে লাগলো তার বাবার ফোন....

-হ্যালোঃ বাবা মাহিম তুই কেমন আছিস বাবা...?

-আব্ব, আমি অনেক ভালো আছি,সুন্দর সুন্দর জিনিস দেখতেছি,খুব ভালো লাগে।

-তোর কোন অসুবিধে হয় নাতো..?? খাবার ঠিকমত খাচ্ছিস বাবা,মন খারাপ হয় না..?

-না বাবা, সব ঠিক আছে , রাতে একটু মন খারাপ হলেও দিনে সব ঠিক হয়ে যায়।আচ্ছা আব্বা মা ভালো আছে তো...??

-হ বাবা, রাতে একটু তোর জন্য চিন্তা করে, তাছাড়া সবাই ভালো আছে,তুই ঠিকমত খাবি এবং সাবধানে চলাচল করবি। আজ রাখি তাহলে বাবা

-আইচ্ছা বাবা, সব ঠিক আছে, ভালো থাকবেন।

চিড়িয়াখানা ঘুড়ে সন্ধায় বাসা আসার পর প্রতিনিয়তের মত মাহিমের একত্বতার কারনে মন খারাপেই হয় একটু। এভাবে চলেগেল বেশ কয়েকটি দিন। আস্তে আস্তে মাহিম ঢাকার পরিবেশের সাথে মিলিয়ে নিতে শুরু করেছে।

এখন আর আগেরম মন খারাপ হয় না, বেশ বন্ধুও হয়েছে তার। পাশের রুমের আনিছ ৫ টার পর অফিস থেকে আসার পর বেশ জমিয়েই আড্ডা দেয় বিভিন্ন জায়গায়।

আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে মাহিম আনিছের অফিসের সমপর্কে সব ধারণা নেয়,কিভাবে চাকুরি করে কি কাজ কেমন কাজ সবকিছুই। আনিছও নিজের ছোট ভাইয়ের মত মনে করে সব কিছুই বলে দেয়।

এভাবে ঢাকায় মাহিমের থাকার বয়স প্রায় ১ মাস হতে চললো। বাড়ীকে থেকে ফোন দিলে মাহিম প্রতিনিয়তেই বলে দেয়,আমার অনেক ভালো লাগতেছে বাবা। আর কিছুদিন পরেই চলে যাবো।


কিন্তুু মাহিমর চিন্তা ধারণা বর্তমানে অন্য ধরনের। আনিছের কাছ থেকে কার চাকুরির কথা শুনে মাহিমেরও অনেক ইচ্ছে হয় সেও একটা চাকুরি করবে।

রাতে সজল বাসায় ফিরার পর মাহিম সজলকে বলিল.....

-ভাইয়া, পরীক্ষার রেজাল্ট তো অনেকদিন বাকি আছে, বাড়ীতেও যেতে আবার মন চায় না। তার চেয়ে বরং আনিছের জায়গায় ক'দিন চাকুরি করি।

-বলিস কি মাহিম, যতদিন ইচ্ছে,তুই ততদিন আমার এখানে বসে বসে খাবি আর ঢাকা শহর ঘুরে ঘুরে দেখবি। বাড়ীতে তোর চাকুরির করার কথা শুনলে তোর বাবা আমায় মেরে ফেলবে।

-আরে ভাইয়া, বাড়ীতে জানতে দেবো না, চুপ করে কদিন চাকুরি করি। দেখি কেমন করে মানুষ কর্ম করে আর আমিও কিছুটা ধারণা নেই।

-আচ্ছা,তোর ইচ্ছে। তবে বাড়ীতে যেন কেউ জানতে না পারে, তো কার ওখানে চাকুরি নিবি..?

-কেন..পাশের রুমের আনিছ ভাইয়ের অফিসে, ওনার অফিসে লোক নিচ্ছে...দরকার হলে কালেই তার সাথে গিয়ে চাকুরি নিবো।

-আচ্ছা,ঠিক আছে এখন ঘুমাও অনেক রাত হলো। কাল অফিস আছে

-আচ্ছা

পরেরদিন সকালে মাহিম আনিছের সাথে চাকুরি নিতে চলে গেল.....

মাহিম আনিছের সাথে তার বহুতল পনেরো তলা বিশিষ্ট অফিসে কাজ নাবে বলে চলে আসলেন। কোন রকম আনিছের পরিচিত হওয়ায় মাহিম খুব সহজেই চাকুরিটা পেলেন আলেয়া এবং রহিমের কাজ করা কারখানা স্ট্যালেন্ড গার্মেন্টস এ।


ক'দিন যেতে না যেতেই মাহিমের বাড়ী থেকে চাপ চলে আসলো। কারন অনেক দিনেই হলো,আদরের ছেলেটাকে তারা দেখে না। তাই মাহিমকে ডাকতে লাগলো।

এদিকে মাহিম তার বাবা মাকে মিথ্যা কথা বলতে শুরু করে দিলো। কারন মাহিম তার বাবা মাকে না বলেই তো চাকুরিটা করতেছে। যদি জানতে পারে যে, মাহিম চাকুরি করে,তাহলে তারা অনেক কষ্ট পাবে।

তাই মাহিম সব সময়েই বলে___আমি অনেক ভাল আছি এবং প্রতিদিন ঘুড়ে ঘুড়ে অনেক নতুন জায়গা দেখতেছি এবং অনেক ভালোই লাগতেছে। তাই আরও বেশ কয়েকদিন এখানে থেকেই যাই।

পশ্চিমের আনোয়ার স্ট্যালেন্ড এ বেশ অনেকদিন থেকেই চাকুরিটা করে আসতেছে। আট থেকে দশ বছর আগে যখন আনোয়ার স্ট্যালেন্ড এ চাকুরি নিয়েছিল, তখন আনোয়ারদের পরিবারের অবস্থা তেমন একটা ভাল ছিলনা বলা চলে। কিন্তু এই আট দশ বছরে আনোয়ার চাকুরিটা করে তার সংসারের অবস্থা অনেকটা এগুয়েই নিয়ে এসেছে।

আনোয়ার কৈশর থেকে যৌবনে পা দিয়েছে অনেক আগেই। বাবা মা জোর করে বিয়ে দিতে চেয়েছিল,আনোয়ার সোজা নাকোস করে দেয়--তারও আবার একটা কারণ আছে। আনোয়াের ইচরছে ছিল ছোট বোন জাহানারাকে বিয়ে দিয়েই আমি বিয়ে করবো।

কিছুদিন আগে অবশ্য সেই ছোট বোনটির বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। স্বামীর ঘরে সুখেই আছে বেশ বোনটি। তাই আনোয়ার এবার নিজে থেকেই বাবাকে বললেন একটা ভালো মেয়ে দেখতে। বিয়ে করবে বলে।

মেয়ে দেখা শেষ,আনোয়ার বাড়ীতে চলে গেলেন,এবং বেশ ধুমধাম ও আনন্দের সহিত পাশের গায়ের রেখাকে ঘরে বরণ করে নিলেন.....

বাসর রাতে যখন প্রথম আনোয়ার রেখাকে দেখলেন,তখন আনোয়ারের মনে হলো কোন এক অপরুপ সৌন্দর্যময় চেহারা তার গায়ের কাছেই আজ,তাই আনোয়ার রেখাকে বলিতে লাগিলেন...

-অপরুপা, তুমিই ছিলে আমার ভাগ্যে, আমি আজ মনে হয় সার্থক।

-লজ্জা লাগছে, ওমন করে বলো না গো

-আসলেই, আল্লাহর কি সৃষ্টি, কি সৌন্দর্য, কি অপরুবা।

-যাহ্ দুষ্ট, ওমন করে বলতে হয় না।

-বাসর রাতে একটা কথা দিবা বউ..?

-হুম, বলো

-বলো তুমি কোনদিন আমাকে ভূলে যাবে না। সারাজীবন স্বামীর শ্রদ্ধাভর আমায় দেখবা।

-আরে পাগল।আজ থেকে কলেমা পড়েই তোমার হয়েছি এবং তোমারেই থাকবো। আজ থেকে সারাজীবনের জন্য আমি শুধু তোমার

-আমি মরে গেলেও তুমি কোনদিন আর একটা বিয়ে করবে না। কারণ এই রুপ সৌন্দর্য এবং ভালবাসা সব কিছুর অধিকারী আমি। এ পারে সব সময় পাশে না পেলেও ঠিক ওপারে যেন তোমাকে আজকের মত করে পাই...

-তুমিতো দেখতেছি পাগল হয়ে গেছো, আচ্ছা বাবা আচ্ছা...আমি শুধু তোমারেই, কিয়ামত পর্যন্ত শুধু তোমির।

রাত শেষ হয়ে যেতে লাগলো, সকাল হয়ে গেলো,বিয়ের বেশ কয়েকদিনের মধ্যেই দুজনার ভালবাসাটা আরও গাড় হতে লাগলো।

ইতি মধ্যেই আনোয়ারের ছুটির সময় শেষ হয়ে গেছে। ঢাকার দিকে রওয়ানা দিতে হবে। কিন্তুু যদিও চাকুরির জন্য আনোয়ারের দেহ যেতে চায়,তো মন যেতে নাছোর বান্দা। যাওয়ারদিন দুজনের মন অনেক খারাপ। তবুও প্রতিদিনের ফোন কলের আশ্বাসে আনোয়ারকে স্ত্রী রেখা যেতে দিল।

সকালে ঢাকায় পৌছে আনোয়ার তার স্ত্রী রেখাকে ফোন দিল এবং এভাবেই চলতে লাগলো প্রতিনিয়তেই।

আবার এই স্থানীয় আক্কাস আর মনা বেশ জটলায় পড়ে আছে....

এক সময় আক্কাস আর মনার সংসারে কোন কিছুর অভাব ছিল না। কিন্তুু বড় সংসারে যদি নিজের স্বামী মদ গাজার আসক্ত থাকেন....তাহলে মনার মত অনেকেরেই সংসার আর সংসার থাকবে না।

বিয়ের পর দুজনের কোল জুড়ে দুটি সন্তান এসেছে। দেখতেও অনেক সুন্দর।

কিন্তুু স্বামীর এমন পরিস্থিতি দেখে....

কিন্তুু স্বামীর এই অশালিন নেশাগ্রস্থ অবস্থা দেখে মনার মনটা সংসারে একদমেই নেই। বার বার মনার বাবা মায়ের কথা অনুযায়ী আক্কাসকে ডিভোর্স দিতে যায়। কিন্তুু পিছুটানের কারণে আর ডিভোর্স হয় না ।


হবেই বা কি করে... বিয়ের স্বামীর জন্য তার মন যতটুকুই না বিরোপ...তার চেয়ে অনেক বেশিই দুর্বল হয়---যখন তার চাদের মত সুন্দর ফুটফুটে সন্তান দুটিকে দেখে।

তাই মনা আর তার সংসার ভাংতে চায় না। মনা একা একা বসে বসে ভাবে...আক্কাস আর কতদিনেই বা আমারে জ্বালাতন করবে, তার মধ্যেই আমার ছাওয়ালদুটি অনেক বড় হবে। ওদের মুখ দেখেই বাকি জীবনাটা পার করে দেই। আর এর মধ্যে যদি আক্কাস একটু ভালো হয়....!!


কিন্তু মানুষ পরিবর্তনীয় এটা স্বাভাবিক, তাই আক্কাসেরও মনের পরিবর্তন আসতে লাগলো। আগেরমত আর নেশা করে না। সব সময় সংসার নিয়েই ব্যস্ত হয়েছে বৈকি।

তাই দেখে মনার মনটা অনেক খুশি, মনা মনে মনে ভাবে...আল্লায় মনে হয় আমার দোয়া কবুল করেছে...যতই কষ্ট হউক আমি আক্কাসকে নিয়েই সংসার করকে চাই। আজ আমি আনন্দের গর্বিতা ....

কিন্তুু আক্কাস যে সময়ে তার স্বাভাবিক মস্তিসকে ফিরে এসেছে,সেটা আরও বেদনাদায়ক। কারণ আগেরমত তার ঘরে কোন জিনিসপত্র নাই, আগের মত ঘরে টাকা নাই.... সব নেশা করেই উড়িয়ে দিয়েছে। এখন সংসার না চলা চলা অবস্থা বললেই চলে। ভিটেমাটি ঘর ছাড়া কিছুই নেই যে আর। রাতে আক্কাস আর মনা শুয়ে শুয়ে অতীতের কথা ও আগামীর কথা বলতে শুরু করলো.......

-মমিনের মা,তোমার যা ইচ্ছে,তুমি আমাকে তাই করতে পারো। আমি তোমাকে অনেক কষ্টই দিয়েছি গো.....!!! আমি আর বাচতে চাই না

-চুপ করো, এতদিনে তো নিজের ভুলটা বুঝতে পারছো...তাতেই যতেষ্ট। আমি এখন অনেক খুশি,,,,,,যেমন খুশি বাকি আট দশটা সুন্দর সংসার

-আমার সংসারটা আমি নিজের হাতেই খুন করেছি মমিনের মা..!! আমি এখন সব বুঝতে পারছি, সব বুঝতে পারছি

-আচ্ছা...বোঝার জন্য অনেক ভাল লাগছে আমায়, আমরা দুজনে একসাথে আবার আগের সংসার গড়ে তুলবো

-কিভাবে তুলবা মমিনের মা...?

-আমাদের সংসারে দুটি সুন্দর ফুটফুটে সন্তান আছে...তাদের ভবিৎসতের কথা চিন্তা করেই দুজনে নিজে চাকুরী করে খাবো

-ঠিক বলেছো, মমিনের মা। আমি এখন থেকে কাম কাজ করুম, অনেক পরিশ্রম করুম,তবুও সংসারটা আগেরমত করে তুলবো

-তোমার সাথে আমিও করবো....

-আচ্ছা...চলো তাহলে কালেই আমাদের বাসার কাছেই স্ট্যালেন্ড গার্মেন্টস এ কাজের জন্য যাই

-আচ্ছা...ঘুমাও এখন,অনেক রাত হলো যে....


পরেরদিন সকালে মনা এবং আক্কাস রওয়ানা দিলো স্ট্যালেন্ড গার্মেন্টস এর দিকে। কারণ তাদের দুজনের উদ্দ্যশ্য যে কোন প্রকার কষ্ট হলেও দুজনে টাকা রোজগার করে তাদের সংসারটিকে আগেরতম করে তুলবে। এবং তাদের আদরের সন্তানদের মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলবে।

অবশেষে তাদের দুজনারেই চাকুরি হয়ে গেল..

অবশেষে মনা এবং আক্কাসের সেই স্ট্যালেন্ড গার্মেন্টস এ চাকুরি হয় গেল। দুজনে প্রতিনিয়ত চাকুরি করতে লাগল, আক্কাস আর আগেরমত নাই...মনাকে যা বলেছিল তা সব পালন করতেছে। আর মদ গাজা নিয়ে আর ব্যস্ত থাকে না। এখন বউ আর ছেলেদের পিছনেই সময় দেয়। ক'দিন দেখতে দেখতেই ঠিক আগের মত সংসার হয়ে যাচ্চে.........

-হুনছো মমিনের মা, দেখছো আমাদের সংসার সেই আগের মতই হয়ে যাচ্ছে

-হুম। হবেই না কেন, তুমমি যে ঠিক হয়ে গেছো,তাই সংসারটার উন্নতি হচ্ছে

-তার পিছনে তোমারওই বড় গুণ.


-কেন, আমার গুণ হবে কেন..??

-তুমি যদি আমার এই নেশাগ্রন্থতা দেখে সব কিছু ছেড়ে চলে যাইকে,তাহলে মনে হয় আমার জীবনডা ওখানেই শোষ হয়ে যেতো।

-আমি যাই নি,কারণ পুত্র সন্তানটির দিকে চেয়ে থেকে তোমার সংসার করেছি,আর আমার মনে বিশ্বাস ছিল,তুমি একদিন ঠিক হবে।

-ও,ও,ও, তাই

-হ্যা,তাই

-আচ্ছা মমিনের মা,আমাদের সন্তানরা বড় হয়ে কি করবে...??

-কি করবে আবার,, বাবার মত হয়তো মদ গাজাখোরেই হবে। তাছাড়া পরিবেশেরও একটা চাহিদা আছে

-হা হা হা, আরে দুর, আমাদের সন্তানরা বড় হয়ে জজ ম্যাজিস্ট্রেট হবে,ডাক্তার হবে। আমরা দুজনের চেষ্টাতেই করতে হবে।

-হুহ্,,তোমার ইচ্ছে...

-আচ্ছা...ঘুমাও। কাল কাজে যেতে হবে। অনেক রাত হয়েই গেলো যে

-আইচ্ছা


পরেরদিন সকালে দুজনে ঞুম থেকে উঠে কেউ রান্না করার জন্য ব্যস্ত হয়ে গেল। আবার কেউ বাচ্ছাদের যত্ন পড়া-লেখা শেখানোর কাজে বস্ত হলো। মনা ভাত রান্না করে, আর আক্কাস বড় ছেলে মমিনকে পড়া পড়ায়...

-আচ্ছা বাবু মমিন...কুমি বড় হয়ে কি করবা আব্বু...?

-মমিন ছোট,তাই উত্তর দেয় --আমি বড় হয়ে বড় বিস্কুট খাইউম

-হা হা হা, বাবা বলোতো...পড়া-লেখা করে তুমি কি হবা.??

-আমি বড় ডাক্তর হবো

-ওলে ওলে আমার আব্বুরে....আমার আব্বুডা সব কিছুই বুঝতে পারে। আর পারবেই না কেন, আমার ছেলে বলেই কথা। কৈ গো ময়নার মা, কৈ গেলা,দেখে যাও তোমার ছেলে কি হতে চায়

-কি হয়েছে,,,ভাত রান্না করতেছি, ডাকতেছো কেন..???

-আরে আরে,,,,,তোমার ছেলে বলেছে যে__সে বড় হলে ডাক্তার হবে। সত্যিই দেখবা আমি বেচে থাকলে ওকে ডাক্তার বানিয়েই ছাড়বো, যত্ত টাকা পয়সা লাগুক না কেন

-আরে,ও সব স্বপ্ন না দেখে আগে পয়সা রোজগার করো মমিনের জন্য

-দেখ মমিনের মা, আমি যা কিছুই করবো,সব তো বাচ্ছা তুটোর জন্যই করবো, আর কে বা আছে এই সংসারে

-আচ্ছা, চলো এখন, ডিউটির সময় হয়েছে

-চলো,চলো

দুজনে একসাথে অফিসে যায়,এক সাথেই আসে, খুবেই মহব্বতেরর সাথেই চলে

ঐ দিকে স্ট্যালেন্ড গার্মেন্টস এর এক মেশিন অপারেটর রানার অনেক আগে থেকেই একটা মেয়েকে পছন্দ হয়েছিল, কিন্তুু কোনদিন মুখদিয়ে তাকে তার মনের কথা বলকে পারে নি....

মেয়েটাও তেমন অসুন্দর না। তেখতেও যেমন সুন্দর, তেমন ব্যবহার আর তেমন গুণ, মোট কথা সব দিক থেকেই প্রথম দেখাতেই রিয়াকে পছন্দ করে রানা।

প্রতিদিনেই অনেকবার রিয়াকে দেখে আর তার মনের প্রস্তাব খানা দিতে চায়, কিন্তুু রানার একটাই চিন্তি, যতি রিয়া প্রস্তাব প্রত্যাখান করে দেয়,তাহলে সব শেষ হবে ।

অবশেষে রানা একটা বুদ্ধি বের করলো....আর তা হলো, পাখিকে সবব বলবে আর পাখি গিয়ে রিয়াকে রানার মনের কথা বলবে .... তাহলে প্রেম হয়ে যাবে।


রানা পাখিকে সব কথা বলার পর, ফ্লরের এক পাশে দাড়িয়ে রইলো....তখন পাখি রিয়ার কাছে গিয়ে রানার মনের কথাগুলি বলে দিলো। আর রিয়া একটু চিন্তা ভাবনা করে রানার প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেল।

পাখি রানার ফোন নাম্বারটি রিয়ার কাছে দিলো মিসকল দিবে বলে....রিয়াও নাম্বারটি নিয়ে নিলো,আর রিয়াও মনে মনে ভাবতে লাগলো রানা ছেলেটি কিন্তুু খারাপ না,, দেখতে অনেক সুন্দর ভদ্রও আছে আর আট দশটা ছেলেরমত খারাপ না।

অতঃপর রিয়া অফিস ছুটির পর বাসায় গিয়েই রানার নাম্বাটিতে একটা কল দিলো.....


রিয়া অফিস ছুটি হওয়ার পর বাসায় গিয়ে রানার নাম্বারটি ফোনে ডায়াল করলেন, তখন রানার সেল ফোনটায় একটা ফোন কলের চিত্র দেখতে পেলেন। রানা মনে মনে ভাবলেন নির্ঘাত এটা রিয়ার কল, বেশ খুশিতেই রিসিভ করলেন........ .

-হ্যালোঃ কে বলছেন..?

-আমি রিয়া, আপনি নাম্বার দিয়েছেন, তাই ফোন দিলাম।

-বুঝতে পারছি, কেমন আছো তুমি...?

-আমি ভালো আছি, আপনি কেমন আছেন?

-আমাকে আর আপনি করে ডাকবে না , তুমি করেই বলবা আমায়

-আমার লজ্জা করে, তাই বলতে পারব না

-লজ্জা কিসের...আজ থেকে তুমি তো আমার সব,

-চেষ্টা করবো

-আচ্ছা

এভাবেই চলতে থাকল দুজনের ফোনিং প্রেমালাপ, তার পর অফিসে দুজনে দুজনার সাথে একটু একটু দোখে এবং হাল্কা লজ্জাভর হয়ে যায়।

বর্তমানে তাদের প্রেম একটু বেশ গভীরেই চলে গিয়েছে, তাদের দুজনার স্বপ্ন অচিরেই তারা দুজনে দুজনাকে বিয়ে করে সারাজীবনের জন্য আবদ্ধ হয়ে থাকতে চায়....

-হ্যালো রিয়া.....

-জ্বী বলো

-আচ্ছা, তুমি কোনদিন আমাকে ভুলে যাবে না তো

-তোমাকে ভুলবো কেমন করে বলো,তুমি যে আমার মন কেড়ে নিয়েছো

-হুহ্,মেয়েদের কোন বিশ্বাস নেই, ধোকাও দিতে পারো

-সব মেয়েরা এক না। আমাকে তুমি কি বুঝলা...?

-অনেক বুঝছি সোনা,,,আসলে তুমি আমায় অনেক ভালবাসো। অনেক

-এই রকম ভাবে চিরজীবন ভালবেসেই যাবো

-আচ্ছা রিয়া চলো কালকে একটা সুন্দর জায়গায় দুজনে বেড়াতে যাই

-যাওয়া যেতে পারে, দেখি কাল দেখা যাবে

-আচ্ছা, ঘুমাও এখন

দিন যতই যাচ্ছে, ততই তাদের প্রেম আরও অনেক গভীরেই চলে যাচ্ছে। এখন তারা শুধু ফোনে আর অফিসে চুপ চুপ করে কথা বলে না।এখন তারা অফিসের বন্ধের দিন যে কোন সুন্দর জায়গায় বেড়াতে যায়। আর চলে তাদের আগামির চিন্তার কথা বার্তা


এভাবেই চলতে লাগলো তাদের প্রেম ভালবাসা আর মমতাময় সেন্থ।

আজ রানা আর রিয়ার প্রেম আলাপ একটু আটকিয়ে দিলাম...একটু অন্য কোন ব্যাক্তির কথা বলি..

সেই হাবলু রিয়া আর রানার স্ট্যালেন্ড গার্মেন্টস এ অনেক আগে থেকেই চাকুরি করে আসতেছে, বেশ সাদা সিধে টাইপের হাবলু কেন জানি সেদিন হঠাৎ করেই একটা অঘটন ঘটিয়ে দিলো..... কেউ হাবলুর এই অঘটনটি মেনে নিতে পারছিল না , তাদের বাড়ীতেও না এবং অফিসেও না

হাবলু অনেক আগে থেকেই ময়নাকে প্রফোজ করে আসতেছিল ।ময়না হাবলুর গ্রামেরেই গেয়ো একটা মেয়ে। ময়নাও হাবলুকে একটু একটু চয়েস করেছিল, কিন্তু হাবলুর মাথার ত্যাড়ামু থাকায় ময়না একটু একটু নারাজ

তবুও হাবলুকেই ভালবাসে,সেদিন হঠাৎ হাবলু ময়নাকে ফোন দিয়ে বললো....

-ময়না, আমি কালকে দেশে গিয়েই তোমাকে বিয়ে করতে চাই

- না,আমি তোমাকে এখন বিয়ে করবো না। কারণ আমার পড়া-লেখা শেষ করতে অনেক বাকি

-না। আমি কালকেই আমাকে বিয়ে করবা, তা না হলে আমি মরেই যাব

-হুহ্, তোমার কত ঢং দেখলাম এই জীবনে

-হুহ্..দেখিও, দেখিও, মরে গেলেই দেখিও

-আচ্ছা,কাল আসিও.. তবুও রাগ করো না

-আচ্ছা

যেহেতু ময়না আর হাবলু একই গ্রামের বাসিন্দা, আর ময়না ও হাবলু মোটা মুটি ভালো করেই প্রেম করেছিল। আর হাবলুর মাথায় টালটা কেমন সেটা ময়না ভাল করে জানে।

কারন একদিন হাবলু ময়নার সাথে ঝগড়া করে বিড়ির আগুন আর ব্লেড দিয়ে হাতের অবস্থা কাহেল করে দিয়েছিল। সেই দিন থেকে ময়না হাবলুর সাথে আর তেমন লাগে না। কারণ হাবলু যেটি বলে, সেটিই করে।


পরেরদিন হাবলু ঠিকেই গ্রামে চলে আসলো, এবং সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল যে___সে বাড়ীতে গিয়ে বাবা মায়ের প্রস্তাবেই ময়নাকে বিয়ে করবে।

কিন্তুু হাবলুর সেই চিন্তা ধারণা একদম ঠিক নাই...কারণ ওই দিকে আবার দুজনের পরিবারের সাথে মাছের কাটা।

বাড়ীতে এসে হাবলু তের বাবা মাকে সব বললো...কিন্তু রাজি হলো না।

তাই হাবলুর মাথার তাঁর ছিঁড়ে যাওয়া অবস্থা...তাই বাকিটা কাজ হাবলু নিজে নিজেই করতে বধ্য..সাথে সাথেই হাবলু ময়নাকে ফোন দিলো......

-এই ময়না, তুমি যদি আমার কাছে এখন ঢাকা চলে না যাও, তাহলে সকালেই আমার মরা মুখ দেখতে পারবে।

-না, না, না, আমি যেতে পারবো না।

-কসম করলাম, যদি না আসো তাহলে কাল সকালেই দেখতে পারবা।

ময়না হাবলুর কথা শুনে খুব চিন্তায় পরে গেল। এক দিকে ময়না তার বাবা-মা আর সমাজের কথা চিন্তা করতে লাগলো। আর একদিকে হাবলুর কথা ভাবতে লাগলো।

রাতেই ময়না হাবলুর প্রেমের মাঝে হাবুডুবু খেয়ে আবেক আর সইতে পারলো না। তাই মনা রাতের আধারেই হাবলুর কাছে গেল, এবং হাবলু সহ দুজনেই রাতের আধারে ঢাকার পথে পারি জমিয়ে নিল......


কিন্তুু সকাল হতে না হতেই হাবলুর গ্রামে যেন মাছের কাটা বেধে গেল..ময়নার বাবা সকালেই সোজা থানায় গিয়ে হাবলুর নামে নারী নির্যাতনের কেস ঠুকিয়ে দিল

তখন হাবলু এবং হাবলুর পরিবার থেকে শুরু করে এমনকি অফিসের অনেক সহোযোগী খুব বিপদ এবং টেনশনে পরে গেলেন

কারণ হাবলু এখনও ময়নাকে আইনগত ও ইসলামি শরিয়াহ্ মোতাবেক বিয়ে করে নাই....


সেই কারনে হাবলু অনেক চিন্তিত, আর একা একা রাগে জলতেছে...আর মনে মনে আফসোস করতেছে। কেন যে এমন করলাম। আগে ভাবিনী কেন এসব। এখন যে কি হবে।

পরে হাবলুর কাছের এক বন্ধু তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসলো.....

-আচ্ছা হাবলু,তুই কি সত্যি মেয়েটাকে বিয়ে করবি...?

- না। ওকে পুতুলের মত করে দেখতে আনছি,বিয়ে করার জন্য না।

-আরে হাবলু,রাগ করিস না। আমি তোকে সাহায্য করবো। তাই বললাম

-সত্যি দোস্ত,সাহায্য করবি তুই...

-হুম। চিন্তা করবি না। আমার পরিচিত কাজি আছে,আজ সেখানে তোকে নিয়ে যাবো।তোর কিচ্ছু হবে না ... নো টেনশন

-আচ্ছা....

সন্ধায় হাবলু ময়না আর তার বন্ধুটি সহ আরো দুজন কাজির ওখানে গেল। সাক্ষী হিসেবে মোট ৩ জন কাজির কাছে গেল।

কাজির ওখানে গিয়ে তারা কোর্টমেরেজ করে বিয়ে করলো,যাতে পরবর্তীতে কোন ঝামেলা না হয়।বিয়ে করার পর হাবলু অনেক আনন্দপূর্ন... কারণ আজ তার সেই স্বপ্নের রাত, আজ তার বাসর রাত

রাত অনেক হয়েছে, তারা বাসায় ফিরে আসলো এবং আজ থেকে হাবলু আর ময়না দুজন দুজনারেই....

-আচ্ছা ময়না, এই স্বরণীয় রাতে একটা কথা দিবা..?

-হুম, বলেন কি বলবেন

-তোমার কোন আপত্তি নেই তো, আমাকে বিয়ে করাতে..??

-কি যে বলেন...আপত্তি থাকলে কি আর আপনার সাথে পালিয়ে আসতাম

-সত্যি,আর আমাকে আজ থেকে তুমি করে বলবা

-পারবো না। লজ্জা করে আমায়

-যাহ্....লজ্জার কোন কারণ নেই।তুমি করেই বলবা

-আচ্ছা, ঠিক আছে

-এই তো আমার লাইনে এসেছো.

-না এসে কি আর হয়

-আমি আমার রাগ দিয়েই সব কিছু আয়ত্ব করেছি...হা হা হা

-সেটাই পেরেছো...ভালবাসা দিয়ে কিছুই করতে পারো নি

-ওই, ওই মাইয়া...আজ রাতে ঝগড়া করতে নেই

তারপরের দিন সকালে হাবলুর একটা খারাপ খবর চলে আসলো।সেটা হলো তার চাকুরিটা চলে গিয়েছে,কারণ হাবলু রাগ করে ময়নাকে বাড়ী থেকে নিয়ে আসার জন্য যখন অফিস থেকে চলে গিয়েছিল।তখন মাথা খারাপ করে অফিসের কাজের অনেকটা কাজের ভূল করেছিল,তাই এমন হয়েছিল।

কিন্তু কি আর করার আছে তাতে,কোনরকম চাকুরী ছাড়া এভাবেই চলতে লাগলো। অন্য অফিসে চাকুরি নেওয়ার জন্য হাবলু চেষ্টা করতে লাগলো।কিন্তুু কথায় আছে..."বিপদ যখন দুয়ারে এসে দাড়ায়,ভালবাসা তখন জানালা দিয়ে পালায়"

তাই হাবলুর চাকুরি হচ্ছে না। এদিকে নতুন সংসারের অবস্থা তেমন ভালো না। কারণ আগে যত টাকা হাবলুর ছিল,বিয়ে করাতে পকেট একদম ফাঁকা হয়ে গিয়েছে, এই মহুর্তে তাদের হাতে কোন টাকা নেই..!

তাই আজ রাতে হাবলু বিছানায় শুয়েই মনাকে বলতে লাগলো.......

রাতে হাবলু মাথায় হাত দিয়ে একটু চিন্তা করে মনাকে বলতে লাগলো...

-ইয়ে মনা, ক'দিন ধরে একটা কথা বলতে চেয়েছিলাম, জানি তোমার কথাটা শুনে অনেক কষ্ট হবে, তবুও বলতে চাই

-না গো না, আমার কোন কষ্ট হবে না,বলো কি বলা

-থাক, বলবো না। আমার কষ্ট হলেও হবে,তোমাকে কষ্ট করকে হবে না

-আরে না না, বলো কোন কষ্ট পাব না,বরং এখন না বললে কষ্ট পাবো

-জানোই তো, আমার চাকুরিটা নেই। অনেক ঋণ ও হয়েছে সংসারটায়, তাই বলছিলাম যে__যদি কিছুদিন চাকুরি করো,তাহলে মনে হয় ভাল হতো

-ও ও এই কথা, দেখো একটা কথা বলি..তোমার সংসার কি আমার সংসার না..? আমাকেও চেষ্টা করতে হবে। আচ্ছা আমি চাকুরি করবো, তোমার চাকুরি হলেও করবো, সংসারটা বড় করে তুলবো দুজনে

-সত্যি বলতেছো

-হুম,সত্যি

পরেরদিন হাবলু তার আগের অফিসের এক কলিগ এর সাথে মনার চাকুরির ব্যপারে কথা বললো এবং চাকুরিটাও নিশ্চিত হলো। এবং ফাঁকে ফাঁকে হাবলুও একটা চাকুরি খুজতে লাগলো।

এখন যেন হাবলু আর মনার সংসারটা একটু উন্নতির পথে,কারণ হাবলুর সেই আগের মত কোন রাগ নেই।বিয়ের পর সংসারের দিকে মনোযোগী হয়ে পরেছে।হাবলু সব সময় ভাবে যে কি করে সংসারটাকে উন্নতি করা যায়,মনাও কম না।

হাবলুর চিন্তাধারা অন্য রকম...তাই রাতে শুয়ে শুয়ে মনা হাবলুকে আর হাবলু মননাকে বলতে থাকে....

-মনা, আমার একটাই স্বপ্ন সেটা হলো আমরা দুজনে অনেক টাকা ক্যাশ করে বাড়ীতে চলে গিয়ে সেখানেই দুজনে সুখের সংসার গড়বো

-আচ্ছা বলোতো.আমার কি চিন্তা অন্য রকম..? সারাজীবন কি এখানে থাকতে চাই..??

-না রে পাগলী বউ,না। আমার চেয়ে তোমার চিন্তা দেখি আরও অনেক বেশি,তাই না হলে কি তুমি আমার মত হ্যাবলা হাবলুর বউ

-থাক, আর ঢং দেখাতে হবে না, ঘুমাও কাল ইন্টাভিউ দিতে যাবা

-ওরে বউ রে...আচ্ছা,দোয়া করিও কাল যেন চাকুরিটা হয়, হলেই তোমাকে আমি স্বর্ণের গলার হাড় কিনে
দিবো

-আমার স্বর্ণ,রত্ন লাগবেনানে, তোমাকেই পাশে চাই

- হুম, চিরদিনেই তোমার পাশে থাকবো


-ওকে, গুডনাইট

-গুডনাইট

পরেরদিন হাবলু সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে একটা কোম্পানিতে ইন্টাফিউ দিতে গেল,এবং চাকুরিটাও পেয়ে গেল, তাই শুনে তো হাবলু মহাখুশি। তার সব স্বপ্ন পূরণ হতে চলছে যে

মনাকে বললো, মনাও মহা খুশি, এখন দুজনেই তাদের সংসারের প্রতি অনেক আগ্রহি হয়ে দিন কাটাতে লাগলো... চলবে

Advertisement

Post a Comment

 
Top