Unknown Unknown Author
Title: মানবতা (গল্প)
Author: Unknown
Rating 5 of 5 Des:
নিঝুম রাত চারদিকটা নিস্তব্দতায় জরাজীর্ণ হয়ে আছে,পৌষ এর শীতটা যেন আজ রাতে একটু বেশিই পড়েছে,হুহু বাতাসে ঘরের ভিতর দিয়ে ঢুকছে ঠান্ডা বাতাস।...

নিঝুম রাত চারদিকটা নিস্তব্দতায়
জরাজীর্ণ হয়ে আছে,পৌষ এর
শীতটা যেন আজ রাতে একটু বেশিই
পড়েছে,হুহু বাতাসে ঘরের ভিতর
দিয়ে ঢুকছে ঠান্ডা বাতাস।
ফুটপাতের ছেলে আবির কোন রকম
মায়ের কাপড়ের উস্নতার ভিতর
শুয়ে ভাবতেছে কখন সকাল হবে কখন একটু
আগুনের কাছে গিয়ে একটু গরম
আবহাওয়ায়
শরীরটাকে ফুরফুরিয়ে নিবো।
একুটু রাতের আলো ফুরাতে না ফুরাতেই
ঠান্ডা সহ্য করতে না পেরে ছোট আবির
ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়লো একটু আগুনের
খোজে,সামনেই
দেখতে পেলো ভাপা পিঠার
দোকানীর দোকানের আলো,আবির
খুশিতে আত্নহারা,,কারন আগুন
পেয়েছে বলে,এবং সেই চুলার আগুনে দুই
হাত তুলে গরম অনুভূতি জোগাড়
করতে লাগলো।
...এদিকে সকাল হয়েই গেছে,বাবার
একমাত্র ছেলে মারুফ বাবার প্রাইভেট
কারটি নিয়ে চলে এসেছে ভাপা পিঠা খেতে,...মারুফ
কিন্তুু কষ্টের ছোঁয়া কখনই পায় নি,,কারন
বাবার একমাত্র ছেলে বলে,,,,কিন্তুু তার
বাবার বাড়ী,গাড়ী সব কিছ কিছুই
আছে সেটা তার বাবাই
জানে কি করে এত বড় হয়েছেন তিনি।
সেই কারণে তার বাবা তার
ছেলেকে কখনই দুঃখ কষ্ট করতে দেয়
নি,যখন যা মন চায় তখন সেটাই করে কোন
বাধা বিপত্তি নেই।
...মারুফ মনের আনন্দে গরম
পিঠা খাচ্ছে এবং পাশেই বসে আবির
মারুফের
দিকে চেয়ে চেয়ে ভাবতেছে....আহ
কি সুন্দর,কতদামী ঠান্ডার পোষাক কত
দামি গাড়ী, এই দুনিয়ায় তাদেরই
বেচে থাকা উচিৎ,কত সুখ
বিলাসতা..আর আমাদের এই ঠান্ডার
একটা ভালো পোষাকও নেই!
যাই দেখি কিছু পাই কিনা ওনার
কাছে।
আবিরঃ ভাইয়া কয়টা টাকা দিবেন
ঠান্ডার কাপড় কিনবো,,,?
মারুফঃ যাহ্ ভাগ এখান
থেকে,,সরে যা,ছোট লোকের
বাচ্ছা,তোদের আবার কিসের
ঠান্ডা,,,??
...আবির বকা খেয়ে মন খারাপ
করে কাঁদতে লাগলো,
তার মাঝেই আবার মারুফের বাবা জীম
করতে করতে ঐ পিঠার
দোকানে চলে আসলো পিা খেতে।
......ছোট
আবিরকে কাঁদতে দেখে মারুফের
বাবা হোসাইন সাহেব আবিরকে বলল
কি হয়েছে বাবা তোমার,,?
কাঁদছো কেন,,?
আবির সব কথা শুনিয়ে দিলো হোসাইন
সাহেব কে।
হোসাইন সাহেব আবির এর
কথা শুনে মারুফকে সেই জায়গায়
বুঝাতে শুরু করলো----
বাবা মারুফ, ছোটকাল
থেকে তোমাকে কখনও কষ্ট
কি,ঠান্ডা কি, দুঃখ কি,অভাব
কি বা কেমন তার অনুভূতি সেটা পর্যন্ত
তোমাকে বুঝতে দেই নি---কারন
তোমার বাবার টাকার কোন অভাব
নেই।
তুমি এখন যেমন
আবিরকে দেখতে পাচ্ছো,,,,ঠিক চল্লিশ
বছর আগে আমি আবিরের মতই
ছিলাম,জীবনে অনেক কষ্ট অনেক
বাধা অতিক্রম করে আজ আমি এই
পর্যায়ে চলে এসেছি, যার মূল্যবোধ আজ
আমি এবং তোমরা পেয়ে যাচ্ছো।
আমি বুঝি কে কতটা দুঃখের
মাঝে এবং কতটা কষ্টের
মাঝে থাকে,কারন
আমি সেটা তাদের চ্যেঁহেরা দেখেই
বুঝতে পারি তার কষ্ট
গুলি থেকে কতদুরে গিয়ে থমকিয়ে রয়েছে তাদের
সুখগুলি।
...আমি এটাও জানি---- কষ্ট
কারা অনুধাবন
করতে পারে এবং কারা অনুভূতির
মাধ্যমে বুঝতে পারে,,,,,,,
হাঁ মারুফ তুমি বুঝতে পারবে না----
কারন তুমি কোনদিন কখনো কোন
বিষয়ে কষ্ট পাও নি,সেই কারনেই
তুমি মারুফের কষ্টটুকু বুঝতে পারনি।
সমস্যা নেই কিন্তুু কখন যে অধিক
বিলাসতায় তুমি তোমার অনুভূতিকে নষ্ট
করে দিয়েছো সেটা জানি না।
আজ থেকে মনে রাখবা আমার বাড়ির
ছাদ থেকে কখনও উপরের
দিকে তাকিয়ে ভাববে না যে____আমার
বাবার বাড়িটি যদি আর কিছু তলা বড়
হত,তাহলে আরো বেশি মজা হতো।
সব সময় চিন্তা করবা যে___আমার
থেকে নিম্নমানুষের কথা কারন
তুমি জীবনে অনেক বড় কিছু
হতে হলে তোমাকে অবশ্যই এই সব
মানুষের দুঃখ কষ্ট দেখে এবং তাদের মত
কষ্ট করে তোমাকে বড় হতে হবে।
আজ আবির নামের
ছেলেটিকে ঘৃণা করেছো,কিন্তুু এই
আবির কষ্ট করে হলেও একদিন তোমার
বাবার মত হতে পারে।
কারন আবির কষ্ট
কি সেটা বুঝতে পারে,এবং বড়
হয়ে অবশ্যই সকল কষ্টওয়ালা মানুষদের
প্রতি সহানুভূতি দেখাবেই।
....পরিষেশে মারুফ তার
ভূলটি বুঝতে পেরে সেদিন থেকে কষ্ট ও
কষ্টের স্বাদ উপোভোগ করতে লাগলো।
এবং সেদিন থেকেই বুঝতে পারলো---
--দুনিয়াতে অনেক রকম কষ্ট
আছে,যারা কখনও সেই কষ্টের
অনুভূতি পায় নি,তারা কখনও অন্যের
কষ্টের মূল্য দিতে পারবে না।
[সকল পথশিশুদের কষ্ট দেখে পারলে অনন্ত
এতটি শীতবস্ত্র কিনে দিন]
# নষ্ট

Advertisement

Post a Comment

 
Top