Unknown Unknown Author
Title: তিস্তা ও তিস্তাপাড়ের কাঁন্না (পর্ব-৪) গল্প
Author: Unknown
Rating 5 of 5 Des:
তিস্তা মরলেও কাঁন্না মারলেও কাঁন্না.......পর্ব-৪ শ্রাঁবন ভাদ্র মাস, আকাশের সব জায়গায় কাঁলো মেঘে ঢাকা আবরণ, এই বুঝি নামবে বৃষ্টি, কৃষক দিনমজ...

তিস্তা মরলেও কাঁন্না মারলেও কাঁন্না.......পর্ব-৪

শ্রাঁবন ভাদ্র মাস, আকাশের সব জায়গায় কাঁলো মেঘে ঢাকা আবরণ, এই বুঝি নামবে বৃষ্টি, কৃষক দিনমজুর সবাই তখন ঘর ছেড়ে বাহিরে বেড়াতে নারাজ...ঐ দিকে আবার নদীর উঁজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে ভরে যাচ্ছে তিস্তা ।

বাহিরে প্রচন্ড বেগে বৃষ্টি হচ্ছে এবং আকাশে মেঘ গুড়গুড় করে ডাকতেছে,সেই সময়ে নদীর তীঁরবর্তি এলাকার লোকজন থাকে অনেক ভয়ে__কারণ নদীতে বন্য হলে ডুবে যাবে ঘর-বাড়ী , ফসল , পুকুর সহ সব কিছুই।

নাহ...তবুও কমছে না তিস্তার পানি, কেউ কেউ আবার কাঁঠি পুঁতে চিন্হিত করে রেখে আসে পানি কমতেছেনা বাড়তেছে..

সন্ধা নামিয়ে আসতে শুরু করল,নদীপাড়ের এলাকার সবাই তাদের গোঁয়ালের গরু,ছাঁগল,হাঁস,মুরগী ইত্যাদি ইত্যাদি সব কিছু উঁচু রাস্তায় রেখে দিল।

ঐ দিকে আবার শুনতে পাওয়া যাচ্ছে "ঐ গেল রে গেল অমুকের ঘর দুইখান নদীতে ডুবি গেল"

সবাই দৌড় আর দৌড়.....কেউ কুড়াঁল দিয়ে ভেঁঙ্গে যাওয়া বাড়ীর মালিকের গাছগুলি কাটতে শুরু করল,আবার কেউ বাকি যে সব জিনিসগুলি আছে তাহা নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যাস্ত...

তখন সবাই তাদেরকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত,ঝগড়া বিবেদ সেইদিন সব শেষ।

আবার ঐ দিকে শোনা যাচ্ছে--মহিলা ও বুড়া-বুড়িদের কাঁন্না__কারণ তাদের মুল্যবান সম্বল ভিটা-মাঠি টুকু নদীতে বিলিন হয়ে যাচ্ছে. এটা তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।

কারণ বাড়ি আগুনে পোঁড়া গেলে জমিটুকু থাকে,কিন্তু এটা সমপুর্ণ বিলিন হয়ে যাচ্ছে...!!

তারা সবাই কাঁন্না করতেছে এবং কাজ ও করতেছে।

...ঐ দিকে রহিম মিয়া তার পুকুর খানায় নানা প্রজাতির মাঁছ ছেড়ে দিয়েছেন,মাঁছগুলি বড় বড় হওয়ার পথে। এদিকে বন্যা হওয়ায় তিনি মহা বিপদে আছেন,মাঁছগুলি তো সব পুকুর হতে বাহির হয়ে নদীতে যাবে।

সেই চিন্তায় সারারাত পুকুর পাড়ে পুকুরের পানিতে ঝাপলা দিয়ে মাছগুলিকে আটকিয়ে রাখতে ব্যাস্ত,জাঁল টাংগিয়ে বানা দিয়ে পুকুরের চারপাশ ঘিরে রেখেছেন..

ভোঁর হতে শুরু করেছে..সবার মনে মাথায় চিন্তা কিছুটা কমতে শুরু করেছে,কারণ দিনের আলোয় কিছুটা অবসান আসবে,

ঐ দিকে আবার শুরু হয়েছে হৈ হৈ ...একটা সাঁপ গ্রামের মধ্যে ডুকেছে...বিশাল বড় সাঁপটা.সবাই লাঠি সোটা দিয়ে হাজির,সাঁপটা ঐ ঘরের মধ্যে ডুকেছে..বাড়ীর বুড়ী বল্ল।

পিচ্চি পোলাপান ও বাকি রয় নাই সাঁপ মারতে,কারণ সাঁপটা বিশাক্ত।

অবশেষে সাঁপ মেরে সবাই ক্ষান্ত হয়ে আবার যার যার কাজের জায়গায় চলে গেল,

ঐ দিকে আবার দেখা যাচ্ছে ছোট ছোট পাঁচ্চু ছেলেরা কলাগাছ দিয়ে সুন্দর ভেঁলা তৈরি করেছে...সবাই হৈ হুল্লা করে সেই ভেঁলা খানায় দিব্বি ভেঁসে বেড়াচ্ছে... চলবে

Advertisement

Post a Comment

 
Top