নীলফামারীতে চুরির অভিযোগে নির্যাতনের শিকার অন্তঃসত্ত্বাকে উদ্ধার করছে পুলিশ।
সব খবরঃ গরু চুরির অভিযোগে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় শেফালী বেগম (৩২) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
৪ অাগস্ট শুক্রবার উপজেলার খালিশাচাঁপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর কোলনঝাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার শেফালী বেগম ওই গ্রামের লালন মিয়ার স্ত্রী এবং একই গ্রামের মৃত মবিয়ার রহমানের মেয়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা সংক্রান্ত এক বিবাদে শেফালীর বাবা মবিয়ার রহমানকে ২০১২ সালের ২৯ জুলাই কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। এ হত্যা মামলায় এলাকার ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। মামলাটি বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। আগামী ২২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।
প্রভাবশালীরা শেফালীকে ওই মামলা মীমাংসার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। এতে আপস না করায় সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও ঠুকে দেয় প্রতিপক্ষ। ফলে শেফালীর একমাত্র ভাই রমজান পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
চুরির অভিযোগে নির্যাতনের পর অন্তঃসত্ত্বা শেফালী বেগম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শেফালী বেগমের দুই ছেলেমেয়ে। তার স্বামী ঢাকায় রিকশা চালান। ঘটনার দিন শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে একই গ্রামে বসবাসকারী তার বড় বোন আকলিমার সঙ্গে তার (আকলিমা) স্বামী রফিকুল ইসলামের ঝগড়া হয়। ঝগড়া থামাতে যান শেফালী। এ নিয়ে ধাক্কাধাক্কি হলে শেফালীর বড় বোনের স্বামী সামান্য আহত হন।
আর এ ঘটনাকে পুঁজি করে হত্যা মামলায় জামিনে থাকা আসামিরা গ্রাম্য মাতব্বরদের সহযোগিতায় শেফালীকে গরু চুরির মিথ্যে ঘটনা সাজিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন করে। শুধু তাই নয়, নির্যাতনকারীদের হুমকিতে প্রকাশ্যে চিকিৎসাও নিতে পারেননি ওই গৃহবধূ।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মফিজ উদ্দিন শেখ প্রিয়.কম-কে বলেন, প্রাথমিকভাবে গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। কিন্তু শেফালীর বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগের ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে নির্যাতনের শিকার অন্তঃসত্ত্বাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
Post a Comment