Unknown Unknown Author
Title: সাংবাদিক খুনি ওসি রফিক এখন লালমনিরহাটে, আতঙ্কে গোটা জেলা..!!
Author: Unknown
Rating 5 of 5 Des:
গত ১৩ জুন দৈনিক জনতা পত্রিকায় প্রকাশিত সাংবাদিক সাগর হত্যা মামলার প্রধান আসামী আলোচিত ওসি রফিক এখন লালমনিরহাটের মূর্তিমান আতঙ্গ। ঢাকা উত্ত...

গত ১৩ জুন দৈনিক জনতা পত্রিকায় প্রকাশিত সাংবাদিক সাগর হত্যা মামলার প্রধান আসামী আলোচিত ওসি রফিক এখন লালমনিরহাটের মূর্তিমান আতঙ্গ।

ঢাকা উত্তরা পশ্চিম থানার সাপ্তাহিক অপরাধ দমন পত্রিকার সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সাগর হত্যা মামলার প্রধান আসামী ওসি রফিকুল এখন লালমনিরহাটের সাধারণ মানুষের মূর্তিমান আতঙ্গের নাম।থানা কর্তৃপক্ষ মামলাটি গ্রহণ না করায় নিহত সাংবাদিকের পরিবার উক্ত ওসি ও ট্রাস্ট কলেজের অধ্যক্ষসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনার পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ওসি রফিকুল ইসলামকে দীর্ঘদিন ক্লোজ করে রাখেন।দীর্ঘ দেড় বছর পর একটি শক্তিশালী তৎবিরের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ এ পুলিশ কর্মকর্তা গত ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করার পর থেকেই সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলে ছাড়ছেন।মাদক নির্মূলের নামে তিনি নিরপরাধ মানুষকে নানাভাবে হয়রানী করে আসছেন।গ্রেফতার বাণিজ্য,মিথ্যা মামলায় হয়রানী,মামলা নথিভুক্ত কারনে অনিয়ম, আসামীর নিকট অনৈতিক সুবিধা আদায়ের মাধ্যমে বাদিকে নির্যাতন-হুমকি,রিমান্ডের নামে নির্যাতনসহ বেশকিছু অভিযোগ উঠেছে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

তার বিরুদ্ধে রয়েছে তার থানার খোদ পুলিশ সদস্যদেএ নির্যাতনেরও অভিযোগ। এসব বিষয় নিয়ে গত ৩০/৪/১৭ইং তারিখে দেশের বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক জনতা পত্রিকায় লালমনিরহাট থানা পুলিশের গ্রেফতার বাণিজ্য আতংকিত সাধারণ মানুষ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এই কর্মকর্তা।নানাভাবে হয়রানীর প্রচেষ্টা হয় এই প্রতিবেদকের উপর। প্রথমে লোক মারফতে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়া হলেও পরে ১২ মে একটি শালিস বৈঠকে প্রতিবেদককে পেয়ে জনসম্মুখে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করার ১ মাস অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।তবে জনশ্রুতি রয়েছস উপর মহলে ওসি রফিকের হাত থাকায় বারবার বিভিন্ন অনিয়ম করার পরেও পাড় পেয়ে যাচ্ছেন তিনি।ফলে তিনি ওসি হিসেবে দায়িত্বপালন করলেও পুলিশ সুপার তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে জানা গেছে। এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে লালমনিরহাটের একাধিক ব্যক্তি জানান,প্রতিরাতে ওসি রফিক শহরের বেশ কিছু পয়েন্টে টহল পুলিশ বসিয়ে দেদারছে চাঁদাবাজি করছে।

বিত্তবান সম্মানী ব্যক্তিদের নানা বাহানায় থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবী করছেন।টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ফাঁসিয়ে দিচ্ছেন মাদক মামলায়।একটি সূত্র জানায়,প্রতিরাতে ওসি এভাবে ঘুষ বাণিজ্য করছেন। শুধু তাই নয়,প্রকৃত মাদক সম্রাটদের তিনি নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা করার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন,হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা।আর ছোটখাটো মাদক সেবীদের কিছু পরিমাণ মাদক দ্রব্য দিয়ে ওই ওসি চালান দিয়ে আই ওয়াশ করছে করছে বলে ওই সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

সূত্রটি আরো জানায়,তার একাজ্ব সদর থানাত ২/১ জন পুলিশের এস আই সহায়তা করে আসছে।এদিকে লালমনিরহাট সদর থানার এক পুলিশ সদস্য জানান,ওসি রফিকের এহেন কাজে কতিপয় পুলিশ সদস্যরা বিরূপ আচরণ করলে তাদেরকেও নানাভাবে নির্যাতন করা হয়।এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ সেপ্টেম্বর ওসি রফিক তার থানার এক পুলিশ সদস্যকে বেধর মারধোর করে।এতে ওই সদস্য জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।এ ঘটনায় দেশের বেশ কয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রচারিত হলেও বিষয়টি ধামাচাপা দেয় জেলা পুলিশ।

ওই পুলিশ সদস্য নাম গোপণ রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলেন,রফিকুল ইসলাম ওসি হিসেবে যোগদান করার পর সদর থানায় নতুন করে শুরু হয়েছে রিমান্ড বাণিজ্য। আসামীদের রিমান্ডে নিয়ে প্রথমে নির্যাতন মওকুপের কথা বলে নূন্যতম প্রায় লক্ষাধিক টাকা দাবী করা হয়।সদর উপজেলার রাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন বলেন,সদর থানার এস আই মশিউর তার ভাগিনা হারুন অর রশিদকে গত ১৯/৫/১৭ইং তারিখে কোনোপ্রকার কারন ছাড়াই আটক করে থাকায় এনে ৩০ বোতল ফেন্সিডিল দিয়ে আদালতে চালান করে।বিষয়টি তিনি পুলিশ সুপার কে লিখিত ভাবে অবহিত করার পরেও তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

উক্ত চেয়ারম্যান ওই পুলিশ কর্মকর্তার দ্রুত বদলী দাবী করেন।উল্লেখ্য,২০১৪ সালের ২ মার্চ সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সাগরকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে ওসি রফিকুল ইসলাম।সাংবাদিক হত্যাসহ বেশকিছু অপরাধের কারনে ওসি রফিকুল ইসলাম কে দেড় বছর ক্লোজ করে রাখেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। পরে তিনি বিভিন্নভাবে তৎবিদের মাধ্যমে লালমনিরহাট সদর থানায় যোগদান করেন।উক্ত ওসির বিরুদ্ধে সাংবাদিক হত্যাসহ অসংখ্য অপরাধ থাকার পরেও কিভাবে তিনি লালমনিরহাট সদর থানায় কর্মরত রয়েছেন এ প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।অনেকে বলছেন,সাংবাদিক হত্যা অন্যের জমি দখল সহ অসংখ্য অপকর্ম করে কিভাবে চাকুরীতে বহাল তবিয়তে থেকে অপরাধ সংঘঠিত করেই চলেছে বিষয়টি বিজ্ঞ মহল কে ভাবিয়ে তুলেছেন। সাংবাদিক হত্যাকারী উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা কে লালমনিরহাটের মানুষ মেনে নিতে পারছেনা।দ্রুত এই পুলিশ অফিসারের বদলীসহ দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা না হলে সাংবাদিকরা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে বলে জানিয়েছেন

Advertisement

Post a Comment

 
Top