নওগাঁর মান্দা উপজেলায় স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ ঘটনায় চ্যানেল এসটিভির সাংবাদিক পরিচয় দানকারী আব্দুর রাজ্জাক (৩৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুর রাজ্জাক উপজেলার দক্ষিণ পরানপুর গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে। ঘটনায় ভিকটিম বাদি হয়ে রবিবার রাতে দুইজনের বিরেুদ্ধে মান্দা থানায় মামলা দায়ের করেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম মান্দা উপজেলার কাঞ্চন উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ১০-১২ দিন আগে আব্দুর রাজ্জাক নিজেকে এসটিভির সাংবাদিক পরিচয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল দিয়ে কথা বলে। এরপর প্রতিদিনই তাকে উত্যক্ত করতে থাকে আব্দুর রাজ্জাক। এক পর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। গত শনিবার রাত ৯টার দিকে কাজী অফিসে যাওয়ার কথা বলে তাকে মোটরসাইকেলে তুলে আব্দুর রাজ্জাকের আত্মীয় উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের আশরাফুল ইসলাম মাহানের বাড়িতে নিয়ে যায়।
ভিকটিম জানায়, রাতে ওই বাড়ির একটি কক্ষে ইচ্ছের বিরুদ্ধে আব্দুর রাজ্জাক তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। রবিবার সকালে আবারো কাজী অফিসে নেওয়ার কথা বলে ওই বাড়ি থেকে তাকে মোটরসাইকেলে করে রাজশাহী শহরে নেওয়া হয়। সেখানে বিয়ের ব্যবস্থা না করে বিকেলে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় আরেক আত্মীয়ের বাড়িতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ অবস্থায় মাদারীপুর বাজারে পৌঁছলে ভিকটিমের চিত্কারে মোটরসাইকেলসহ তাদের দু’জনকে আটক করে স্থানীয়রা।
সেখানে বিয়ের ব্যবস্থা না করে বিকেলে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় আরেক আত্মীয়ের বাড়িতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ অবস্থায় মাদারীপুর বাজারে পৌঁছলে ভিকটিমের চিত্কারে মোটরসাইকেলসহ তাদের দু’জনকে আটক করে স্থানীয়রা। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে একইভাবে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আরো ৯-১০ জন নারীকে সর্বশান্ত করেছে প্রতারক আব্দুর রাজ্জাক।
মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিছুর রহমান জানান, সংবাদ পেয়ে রাজশাহী তানোর থানা পুলিশের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে আব্দুর রাজ্জাকসহ ভিকটিমকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনায় ভিকটিম বাদি হয়ে আব্দুর রাজ্জাক ও আশরাফুল ইসলাম মাহানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে। ওসি আরো জানান, মামলার পর আসামি আব্দুর রাজ্জাককে সোমবার জেলহাজতে ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ভিকটিমকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
Post a Comment