আবুল বাশার নূরু : নবম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত ৪১ সদস্যের মধ্যে ৩৪ জনকে এখন আর রাজনৈতিক অঙ্গণে দেখা যায় না। দলীয় কোনো কর্মসূচি কিংবা জাতীয় কোনো অনুষ্ঠানেও এদের উপস্থিতি নেই। সংসদ সদস্য পদ হারিয়ে বেশিরভাগ নারী এমপি রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছেন।
নবম সংসদে সংরক্ষিত ৫০ টি আসনের মধ্য ৪১ জন ছিলেন আওয়ামী লীগের। বাকি আসনগুলো বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির ছিল।
এমপি পদ হারিয়ে আওয়ামী লীগের ৩৪ জন নারী নেত্রী দলীয় কর্মকান্ড থেকে দূরে সরে গেলেও কেবল ২ জনকে দেখা গেছে সব সময় দলীয় কর্মকান্ডে সক্রিয় থাকতে। এরা হলেন যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আখতার এবং সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা অপু উকিল। সংগঠন পরিচালনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সকল কর্মসূচি সফল করতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন নাজমা- অপু। এছাড়া টিভি টকশোতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরা এবং বিরোধীদলের বক্তব্যের পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেছেন।
সাবেক নারী এমপিদের মধ্যে কয়েকজন বার্ধক্যজনিত কারনে বাইরে তেমন বের হন না। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে অনেকেই সুস্থ থাকলেও নিজেকে রাজনীতি থেকে দূরে রেখেছেন।
নবম সংসদে হঠাৎ করে সংরক্ষিত আসনে কেউ কেউ মনোনয়ন পেয়েছিলেন। আবার কেউ কেউ ছিলেন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৬ সালের সংসদে একাধিক এমপি নবম সংসদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি হয়েছিলেন। সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিন্নাতুন্নেছা তালুকদার, তহুরা আলী, শাহীন মনোয়ারা হক, সালেহা মোশারফ ৯৬ এবং নবম সংসদে এমপি ছিলেন। ২০০১ সালের বৈরি সময়ে সরাসরি ভোটে এমপি হয়েছিলেন ড.হামিদা বানু শোভা। নবম সংসদে সংরক্ষিত আসনের তাকে এমপি করেছিল আওয়ামী লীগ। বর্তমানে দলীয় কর্মকান্ডে দেখা যায় না শোভাকে। রাজনৈতিক পরিবেশে বড় হওয়া রওশন জাহান সাথী মহিলা শ্রমিক লীগ নামে সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বেশ সক্রিয় ছিলেন তিনি। নবম সংসদে এমপি হয়েছিলেন সাথী। কিন্তু বর্তমানে তাকে কোথাও দেখা যায় না। মহিলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সাহেদা তারেক দিপ্তি। রাজপথের আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। রাজপথের আন্দোলনে ভূমিকা রাখা আরেক নারী নেত্রী শাহিন মনোয়ারা হক, আসমা জেরিন ঝুমুকে এখন দলীয় কর্মসূচিতে দেখা যায় না।
নবম সংসদে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাওয়া একটি নাম নিয়ে বিরূপ সমালোচনা উঠেছিল। তিনি হলেন পারভীন তালুকদার। এমপি পদ থেকে বিদায় নেওয়ার পর তিনি এখন কেবলই গৃহিনী। অভিনেত্রী শাওনের মা তহুরা আলী একাধিকবার সংরক্ষিত আসনে এমপি ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তাকে কোথাও দেখা যায় না।
আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে কখনই জড়িত ছিলেন না এমন কয়েকজনকে দশম সংসদে সংরক্ষিত আসনে এমপি করেছে আওয়ামী লীগ। এনিয়ে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেত্রীদের অনেক ক্ষোভ রয়েছে। দল ক্ষমতায় না থাকলে কিংবা দল ক্ষমতায় এলে এমপি না বানালে বেশিরভাগই পর্দার আড়ালে চলে যাবেন এমন মন্তব্য করেছেন অনেকেই।
Post a Comment